অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষে নতুন সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আগমুহূর্তে নিজের ও মন্ত্রণালয়ের কাজের বিস্তারিত বিবরণ জনসম্মুখে তুলে ধরেছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। গত দেড় বছরে তার কার্যক্রম নিয়ে ওঠা নানা সমালোচনার জবাব দিতেই রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্ট দেন তিনি।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি বিনয়ের সঙ্গে উল্লেখ করেন, গত দেড় বছরে যেসব সংস্কার ও কাজ হয়েছে, তা তার ব্যক্তিগত কোনো কৃতিত্ব নয়, বরং এটি আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল। সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে তিনি লেখেন, “ভাই, আমি কিছু করিনি। করেছে আমাদের আইন মন্ত্রণালয়। তবে এর প্রতিটি কাজে আমি অংশীদার ছিলাম। আমি জানি তারপরও সমালোচনা করতে কারো কারো ভালো লাগবে। সেটা করেন, সমস্যা নাই। তবে আমার একান্ত অনুরোধ, তার আগে কী কী কাজ করা হয়েছে তা একটু জেনে নিন।”

ড. আসিফ নজরুল জানান, দায়িত্ব পালনকালে তিনি কঠোর পরিশ্রম করেছেন। খুব সকালে অফিসে এসে প্রয়োজনে রাত ৮টা-৯টা পর্যন্ত থেকেছেন এবং বাসায় ফিরেও গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করেছেন। বহু সরকারি ছুটির দিনেও (শুক্র ও শনিবার) তিনি সচিবালয়ে অফিস করেছেন বলে উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, আইন মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি তিনি প্রবাসী কল্যাণ এবং শেষ দিকে ক্রীড়া উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করেন। বিশেষ করে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর আইপিএল ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইস্যুতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ভারত সফর বাতিল সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে তিনি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন।

উল্লেখযোগ্য সংস্কার ও অর্জনঃ

বিদায়ী এই উপদেষ্টা জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ‘আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে’ তার মন্ত্রণালয় গত দেড় বছরে ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম চালিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

আইনি সংস্কার: মোট ২২টি আইনি সংস্কার করা হয়েছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) অধ্যাদেশ সংশোধন, বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ আইন এবং সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ অন্যতম।

প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার: বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতে ১৫টি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। ১,৬০৫টি নতুন আদালত সৃষ্টি এবং দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত পৃথকীকরণ করা হয়েছে।

মামলা প্রত্যাহার: রাজনৈতিক হয়রানিমূলক প্রায় ২৪ হাজার ২৭৬টি মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে সাইবার আইনের ‘স্পিচ অফেন্স’ মামলা এবং জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের মামলাগুলোও অন্তর্ভুক্ত।

বিচারিক কার্যক্রম ও অন্যান্যঃ

গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার বিচার প্রসঙ্গে তিনি জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও প্রসিকিউটর নিয়োগসহ চারটি মামলার রায় সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও কয়েকটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া গত দেড় বছরে মন্ত্রীপর্যায়ে ২,২৮১টি নথি নিষ্পত্তি এবং ৫৭৮টি আইনি মতামত দেওয়া হয়েছে, যা পূর্ববর্তী সরকারের একই সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।

পোস্টের শেষে তিনি জানান, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে তার সময়ে কী কী কাজ হয়েছে, তার হিসাবও তিনি শীঘ্রই দেবেন।


ট্যাগ: আসিফ নজরুল, অন্তর্বর্তী সরকার, আইন মন্ত্রণালয়, সংস্কার, বাংলাদেশ রাজনীতি ২০২৬।