জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী ভোটের সংখ্যানুপাতে জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ গঠনের দাবি জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)। তিনি বলেন, জুলাই সনদ হলো রাজনৈতিক দলগুলোর দীর্ঘ আলোচনা ও সম্মতির ফসল। তাই এই সনদের নির্দেশনা অনুযায়ী উচ্চকক্ষ গঠন করা এখন আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত নির্বাচন পরবর্তী এক পর্যালোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

চরমোনাই পীর বলেন, ‘জুলাই সনদ কোনো সাধারণ দলিল নয়, এটি গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশার প্রতিফলন। জনগণও এই সনদের প্রতি তাদের সম্মতি জানিয়েছে। সুতরাং, নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন করতে হবে।’

সদ্য সমাপ্ত নির্বাচন প্রসঙ্গে মুফতি রেজাউল করীম বলেন, বেশ কিছু আসনে নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া, ফলাফল শিটে কাটাকাটি এবং অযৌক্তিকভাবে ভোট বাতিলের মতো ঘটনা ঘটেছে বলে খবর আসছে। তিনি এসব অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে হবে এবং যেসব আসনে অনিয়মের প্রমাণ মিলবে, সেখানে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

পর্যালোচনা সভায় দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম (শায়েখে চরমোনাই), প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলানা মোসাদ্দেক বিল্লাহ মাদানী, মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুস আহমদ, এবং সদ্য নির্বাচিত বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা অলিউল্লাহ মাহমুদসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।