দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই নিজ নিজ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন বিএনপির নবনির্বাচিত দুই সংসদ সদস্য। ময়মনসিংহে মাইকিং করে সতর্কবার্তা এবং কুমিল্লায় অভিযোগ বাক্স স্থাপনের মাধ্যমে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করেছেন তারা।


গফরগাঁওয়ে এমপির মাইকিং ও হুঁশিয়ারিঃ

ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) পুরো নির্বাচনী এলাকায় মাইকিং করিয়েছেন। মাইকিংয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এলাকায় কেউ যদি চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের চেষ্টা করে, তবে তাকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিতে হবে।

গফরগাঁও বাজার ও পৌর এলাকার ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে মাইকিংয়ে বলা হয়, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি চাঁদা দাবি করে বা বেআইনি কাজে লিপ্ত হয়, তবে ভয় না পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে হবে। প্রয়োজনে সরাসরি এমপিকেও জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এমপি আক্তারুজ্জামান লেখেন, ‘অপরাধীর একমাত্র পরিচয় সে অপরাধী। এখানে দলের দোহাই দিয়ে কেউ পার পাবে না। বিশৃঙ্খলাকারীদের স্থান দলে নেই। আমাদের লক্ষ্য—জনগণের নিরাপত্তা, অর্থনীতির চাকা সচল রাখা এবং কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন নিশ্চিত করা।’

এমপির এমন উদ্যোগে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন গফরগাঁও পৌরবাসী। স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল আউয়াল জানান, নির্বাচিত হওয়ার পরপরই এমপির এমন মাইকিং জনমনে আশা জাগিয়েছে। শান্তি ফেরাতে এলাকাবাসীরও উচিত এমপিকে সহযোগিতা করা।

নাঙ্গলকোটে ‘অভিযোগ বাক্স’ স্থাপনঃ

অন্যদিকে, কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট ও লালমাই) আসনের নবনির্বাচিত এমপি মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া অপরাধ দমনে নিলেন এক অভিনব উদ্যোগ। সোমবার সন্ধ্যায় নাঙ্গলকোট বাজারের বটতলা এলাকায় তিনি একটি ‘অভিযোগ বাক্স’ স্থাপন করেন।

বাক্সের গায়ে লেখা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে—বিএনপির কোনো নেতাকর্মী যদি চাঁদাবাজি বা অনৈতিক কাজে জড়িত থাকে, তবে নির্ভয়ে লিখিত অভিযোগ দিন। অভিযোগকারীর নাম-পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে।

এমপি মোবাশ্বের আলম জানান, পর্যায়ক্রমে তার নির্বাচনী এলাকার দুটি থানা, উপজেলা পরিষদ এবং জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে স্টিলের তৈরি মজবুত অভিযোগ বাক্স বসানো হবে। এসব বাক্সের চাবি সংরক্ষিত থাকবে শুধুমাত্র এমপির কাছে। তিনি নিজে তালা খুলে অভিযোগগুলো যাচাই করবেন।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি জনগণের পাহারাদার হিসেবে কাজ করতে চাই। মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। অপরাধী যদি আমার নিজ দলেরও হয়, তবুও তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’

নিউজ ট্যাগ: বিএনপি, সংসদ নির্বাচন ২০২৬, গফরগাঁও, নাঙ্গলকোট, রাজনীতি, অপরাধ দমন।