দ্বাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যদের বড় একটি অংশই বিত্তশালী। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) জানিয়েছে, বর্তমান সংসদের ৮০ দশমিক ৪৬ শতাংশ সদস্যই কোটিপতি। সম্প্রতি রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন প্রক্রিয়া ও হলফনামা ভিত্তিক পর্যালোচনায় এই তথ্য তুলে ধরে সংস্থাটি।

সম্পদের পরিসংখ্যান

টিআইবির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে ২৩৬ জনই কোটি টাকার মালিক। এর মধ্যে ১৩ জন সদস্যের সম্পদের পরিমাণ ১০০ কোটি টাকারও বেশি (শত কোটিপতি)। প্রার্থীদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির বর্তমান বাজারমূল্য হিসাব করে এই পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে।

নির্বাচন ও অনিয়ম প্রসঙ্গ

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এবারের নির্বাচন প্রক্রিয়াটি ‘মোটামুটিভাবে গ্রহণযোগ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক’ ছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকার কারণে প্রায় ৭৫ শতাংশ জাল ভোট দেওয়ার অপচেষ্টা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও দেখিয়েছে টিআইবি। তাদের গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ভোটকেন্দ্রগুলোর মধ্যে অন্তত ৪০ শতাংশ কেন্দ্রে একাধিক অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে।

নির্বাচনী ব্যয় ও আচরণবিধি লঙ্ঘন

নির্বাচনী ব্যয়ের ক্ষেত্রেও ব্যাপক অসংগতি উঠে এসেছে টিআইবির প্রতিবেদনে। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রার্থীদের সর্বোচ্চ গড় ব্যয়সীমা ৪৪ লাখ ২৪ হাজার টাকা নির্ধারিত থাকলেও, প্রার্থীরা গড়ে খরচ করেছেন ১ কোটি ১৯ লাখ ২৩ হাজার টাকা। অর্থাৎ, নির্ধারিত সীমার চেয়ে গড়ে প্রায় ৭৫ লাখ টাকা (৭৪ লাখ ৯৮ হাজার) বেশি ব্যয় করেছেন তারা।

এছাড়া আচরণবিধি লঙ্ঘনের চিত্র ছিল উদ্বেগজনক। গবেষণায় দেখা গেছে, ৯৯ শতাংশ প্রার্থীই কোনো না কোনো নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করেছেন। পাশাপাশি, ৪৬ দশমিক ৪ শতাংশ ভোটারকে কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া কিংবা হুমকি দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ ও নির্বাচন কমিশন

রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান নিয়েও পর্যবেক্ষণ দিয়েছে টিআইবি। প্রতিবেদনে বলা হয়, আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরা দাবি করলেও, বিরোধী দলগুলো শতভাগ নির্বাচন বর্জন করেছে—এমনটি বলা যাবে না। বিএনপির অনেক কর্মী-সমর্থকও বিভিন্নভাবে নির্বাচনে সক্রিয় ছিলেন।

অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা প্রসঙ্গে ড. ইফতেখারুজ্জামান একটি ভিন্নধর্মী ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী উভয় পক্ষই কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনেছে। একে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ থাকার প্রচেষ্টার একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।