ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কর্মযজ্ঞ শেষে দেশে এখন নতুন সরকার গঠনের আমেজ। নির্বাচিত মন্ত্রীসভার শপথ গ্রহণের প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে ইতি ঘটতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদের। এই ক্রান্তিলগ্নে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এটি ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে ড. ইউনূসের সঙ্গে সেনাপ্রধানের শেষ আনুষ্ঠানিক বৈঠক।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাতে উভয়ে কুশল বিনিময় করেন। এসময় অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন দিক নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়। ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার দায়িত্ব পালনকালে, বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনীর জোরালো ভূমিকা ও সহযোগিতার জন্য সেনাপ্রধানকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

অন্যদিকে, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানও কঠিন সময়ে দেশের হাল ধরা এবং যথাযথভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রধান উপদেষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একে অপরকে ধন্যবাদ জানানোর মাধ্যমে এক সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বিদায়ী সাক্ষাৎ শেষ হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন সরকারের পতনের পর দেশের এক চরম সংকটময় মুহূর্তে হাল ধরেছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। পরবর্তীতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

গত প্রায় ১৮ মাস ধরে এই সরকার ও সেনাবাহিনী সম্মিলিতভাবে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে কাজ করেছে। নানান সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্র কাঠামোতে বেশ কিছু দৃশ্যমান সংস্কার এনেছে বর্তমান প্রশাসন।

ধারণা করা হয়েছিল এবারের নির্বাচন সংহিংসতাপূর্ণ হতে পারে। তবে সেনাবাহিনীর কঠোর নজরদারি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় সাধারণ মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছে। দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রামের পর একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার এখন নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের অপেক্ষায় রয়েছে।