নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি জোরদার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, নতুন সরকার গঠনের ক্ষেত্রে এবার মন্ত্রিসভার আকার ছোট রাখার পরিকল্পনা রয়েছে, যা আগের সরকারের তুলনায় কাঠামোগতভাবে ভিন্ন হতে পারে।

ছোট সরকার গঠনের পরিকল্পনা

দলীয় নীতি নির্ধারকদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক করতে মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা কমানোর চিন্তা করা হচ্ছে। বর্তমানে বিদ্যমান কাঠামোর কিছু মন্ত্রণালয় একীভূত করার পরিকল্পনাও আলোচনায় রয়েছে। এতে একই খাতভিত্তিক মন্ত্রণালয়গুলো এক ছাতার নিচে আনার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

মন্ত্রিসভায় কারা থাকতে পারেন?

যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তালিকা প্রকাশ করা হয়নি, তবুও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে যে নতুন মন্ত্রিসভা হবে নবীন ও অভিজ্ঞ নেতাদের সমন্বয়ে। তরুণ নেতৃত্বকে সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি প্রবীণ রাজনীতিকদেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রাখা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সমমনা দল ও প্রতিনিধিত্বের বিষয়

শুধু দলীয় নেতাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে নির্বাচনে জয়ী সমমনা দলগুলোর কিছু নেতাকেও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার আলোচনা রয়েছে। পাশাপাশি নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়ও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে বলে রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।

শপথ অনুষ্ঠান নিয়ে প্রস্তুতি

নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের পরই নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে সংসদ ভবনে এই আয়োজন সম্পন্ন হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। বিদেশি অতিথিদের আমন্ত্রণের বিষয়েও আলোচনা চলছে।

সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার কাঠামো

রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, নতুন মন্ত্রিসভায় পূর্ণমন্ত্রীর সংখ্যা দুই ডজনের কাছাকাছি থাকতে পারে। এছাড়া প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর সংখ্যা তুলনামূলক কম রাখা হতে পারে, যাতে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ

বিশ্লেষকদের মতে, ছোট আকারের মন্ত্রিসভা গঠনের মাধ্যমে প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের বার্তাও দিতে চাইতে পারে নতুন সরকার। তবে শেষ পর্যন্ত কাঠামো কেমন হবে, তা নির্ভর করছে দলীয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।