বগুড়া প্রতিনিধি:
রাত পোহালেই শুরু হতে যাচ্ছে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ‘খাউড়া মেলা’। প্রতি বছরের মতো এবারও উপজেলার জালশুকা খাউড়া ব্রিজ এলাকায় এই মেলাকে ঘিরে সাজসাজ রব পড়ে গেছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) সকাল থেকে শুরু হবে একদিনের এই প্রাণের উৎসব।
মেলা উপলক্ষে ইতোমধ্যেই জালশুকা ও এর আশপাশের গ্রামগুলোতে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। জামাই-মেয়ে ও আত্মীয়-স্বজনদের আপ্যায়নে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা। শত বছরের ঐতিহ্য মেনে স্থানীয় খাউড়া ব্রিজের দুই পাশে বিশাল এলাকাজুড়ে বসেছে হরেক রকমের দোকানপাট।
সরেজমিনে মঙ্গলবার বিকেলে দেখা যায়, মেলা প্রাঙ্গণে দোকান সাজাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা। বাঁশ ও ত্রিপল দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে স্টল। বগুড়ার বিখ্যাত দই, মিষ্টি, বড় মাছ, কাঠ ও বেতের আসবাবপত্র, মাটির তৈরি তৈজসপত্র, শিশুদের খেলনা এবং প্রসাধনী সামগ্রী নিয়ে বসছেন দোকানিরা। বিশেষ করে মেলায় বিশালাকৃতির মাছের আমদানি এবং মিষ্টির পাহাড় দেখার জন্য মুখিয়ে আছেন দর্শনার্থীরা।
স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দারা জানান, বহুকাল ধরে এই খাউড়া মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। শুরুতে এটি একটি গ্রামীণ মেলা থাকলেও সময়ের পরিক্রমায় এটি এখন অত্র অঞ্চলের মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
শুধু কেনাকাটা নয়, পুরনো আত্মীয় ও বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ হিসেবেও এই দিনটিকে বেছে নেন অনেকে। মেলায় অংশ নিতে আসা এক মিষ্টি ব্যবসায়ী বলেন, “আমরা প্রতি বছর এই মেলার জন্য অপেক্ষা করি। এবারও প্রচুর মিষ্টির সমাহার নিয়ে এসেছি। আশা করছি আবহাওয়া ভালো থাকলে বেচাকেনা জমে উঠবে।”
নিরাপত্তার বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও মেলা আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মেলায় আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সুষ্ঠুভাবে মেলা সম্পন্ন করতে স্বেচ্ছাসেবক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি থাকবে।
সব মিলিয়ে, বুধবার সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গেই খাউড়া ব্রিজ এলাকা হাজারো মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠবে—এমনটাই প্রত্যাশা আয়োজক ও এলাকাবাসীর।
নিউজ ট্যাগ: বগুড়া, খাউড়া মেলা, শাজাহানপুর, ঐতিহ্যবাহী মেলা, জালশুকা।





0 Comments